শিশুর জন্য সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় শিশু দিবস

দেশজুড়ে ডেস্ক: শিশুর জন্য একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং সুন্দর আগামীর প্রত্যাশার মধ্যদিয়ে আজ ১৭ মার্চ শনিবার সারা দেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস। বিশেষ এ দিনটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন: ‘রঙ ছড়ানো আলো, লাল-সবুজের বাংলাদেশে থাকবে শিশু ভালো।

শিশু দিবস   পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়ে থাকে, বিশ্বব্যাপী শিশুদের সম্মান করতে। শিশু দিবসটি প্রথমবার তুরস্কেপালিত হয়েছিল  ১৯২০র এপ্রিল ২৩ তারিখে। বিশ্ব শিশু দিবস নভেম্বর ২০শে উদযাপন করা হয়, এবং আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজেস্ব নির্দিষ্ট দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদযাপন করার।

আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনের দেশশাসক।

এই ভবিষ্যৎ প্রবক্তাদের চোখে-মুখে যদি আমরা আলোর রেণু এঁকে দিতে চাই, তাহলে সবার আগে তাদের উপযোগী পৃথিবী আমাদের গড়ে দিতে হবে। তাদের বেড়ে উঠতে দিতে হবে অনুকূল পরিবেশে। আর আমরা যদি তাদের সেই শিশুবান্ধব পরিবেশ উপহার দিতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা যত স্বপ্নই তাদের ঘিরে দেখি না কেন, সব বরবাদ হয়ে যাবে,
একটি শিশুর চোখে সব সময় সকল রকম সম্ভাবনার বারুদ ফিনকি দেয়। সেই বারুদে কেবল আগুন ঢেলে দিতে হবে, যাতে তারা তাদের মেধা ও মননকে সঠিক জায়গায় নিয়ে লালন-পালন করতে পারে।
মানুষের মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এই ৫টি বিষয়কে যদি আমরা পুরোপুরিভাবে শিশুদের জন্য নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আমরা যা চাই তা পাওয়াটা বোধ করি খুব কঠিন হবে না।
এক দলা কাদামাটি আর একটা শিশুতে আসলে মৌলিক কোনোই পার্থক্য নেই। নরম কাদামাটিতে যেমন ইচ্ছেমতো একজন কারিগর যা ইচ্ছে তাই বানাতে পারেন, ঠিক একইভাবে একটি শিশুকে একই প্রক্রিয়ায় গড়ে তোলা অসম্ভব নয়।
একজন সাধারণ মানুষের মতোই একটি শিশুর অধিকার সমান। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুর প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সবার আগে শিশুর জন্য ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। বিষয়টি খুবই চমৎকার। কিন্তু সেটি আমাদের পরিবারের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই ‘হ্যাঁ’ বলার প্রক্রিয়া আমাদের পরিবারের সীমারেখা ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেনি। তার মানে কেবল আমাদের পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর বাইরেও অনেক শিশু রয়েছে, যারা দীনহীনভাবে বসবাস করে। দু’বেলা দু’মুঠো অন্নই যেখানে ঠিকমতো তাদের জোটে না। সেখানে অন্যান্য চাহিদার কথা তো সুদূর পরাহত। এ জন্য কেবল আমাদের পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর জন্যই নয়, এই বিষয়টি ‘এক বিশ্ব এক শিশু’ হিসেবে যেদিন আমরা ভাবতে শিখতে পারবো, সেদিনই আমাদের সমাজে শিশুর সকল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।